দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন দুটোই নিম্নমুখী ছিল। আলোচ্য সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স দশমিক ৬৪ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ডিএসইর সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, গত সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৪৫০ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৪ দশমিক ১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১০৭ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৬ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১৭৮ পয়েন্ট।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৯৫টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৯টির, কমেছে ২১৯টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টির। আর লেনদেন হয়নি ১৮টির। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৫৮৩ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৭০১ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে হিসাবে গত সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষ অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ওষুধ ও রসায়ন খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। প্রকৌশল খাত ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর ৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার পঞ্চম অবস্থানে ছিল বিবিধ খাত।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে ছয়টি খাত বাদে সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৯২ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে করপোরেট বন্ড খাতে। এছাড়া ব্যাংক খাতে ১ দশমিক ৮৯ এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে সেবা ও আবাসন খাতে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩ দশমিক ৩২ ও সিরামিক খাতে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে ১ দশমিক ৬২ শতাংশ কমে ১৫ হাজার ৮৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৩৩৮ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ কমে ৯ হাজার ২৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৪১৯ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ৮০ কোটি ৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬৭ কোটি ৬ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩১৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৬টির, কমেছে ২১৫টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির।